ভুটান ভ্রমণ || Part 1 (থিম্পু)

ভ্রমণের পাগলামির মাত্রা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে আমরা গিয়েছিলাম ভুটানে। রীতিমত ভ্রমণের যাবতীয় ঝামেলা এড়ানোর জন্য আমরা যুক্ত হয়েছিলাম বাংলাদেশের একটি ভ্রমণ Group এর সাথে।

ভুটান ভ্রমণ Part 1 এ আপনাদের সাথে শেয়ার করব বাংলাদেশ থেকে ভুটান যাওয়া এবং ভুটানের থিম্পু ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।

ভুটান এ যাওয়ার জন্য আমরা প্রথমে চলে আসি বাংলাদেশের বুড়িমারী বর্ডার আর ভারতের চেংরাবান্ধা বর্ডার হয়ে ভারতে।

ভারতের চেংরাবান্ধা বর্ডার পার হয়ে সেখান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে আমরা চলে যাই ভারতের জয়গা বর্ডার। জয়গা বর্ডার পার হয়ে চলে যাই ভুটানের Fushimi(ফুশিমি) বর্ডারে।

বাংলাদেশ থেকে মোট চারটি বর্ডার পার হয়ে আমরা পা রেখেছিলাম ভুটানে। অনেকটা পথ জার্নি করে আসলেও ভুটানের বর্ডার এ আসা মাত্রই ভ্রমণের উত্তেজনা উজ্জীবিত হতে শুরু করে।

কারণ ভুটানের বর্ডার এর গেট বা ভুটানের যে প্রবেশদ্বারটি রয়েছে তার কারুকাজ দিয়েই ভুটান আপনাকে মুগ্ধ করতে শুরু করবে।

ভুটানে এসে আমরা যাত্রা শুরু করছিলাম থিম্পু থেকে।

ভুটানে এসে প্রথমে আমরা যাই Khamsum Yulley Namgyal Chorten(খামসুম ইউল্লি নামগাল চর্টেন) এ। Chorten মানে হচ্ছে বুদ্ধদের মন্দির। Khamsum Yulley Namgyal Chorten(খামসুম ইউল্লি নামগাল চর্টেন) টি এশিয়ার আশ্চর্য জনক ঐতিহ্য ও স্থাপনা নিদর্শন এর একটি। এই Chorten টি পূজা অর্চনা বা পড়ালেখা করার জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মূলত রানী মা তৈরি করেছিলেন মানবজাতির নেগেটিভ ফোর্স দূর করে জীবনের প্রশান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য।

পাহাড়ের উপর এই Chorten টি তে ঘুরতে এসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মানব জাতির তৈরী সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে সময়টা বেশ ভালো ভাবেই কেটে যায় আমাদের।

Khamsum Yulley Namgyal Chorten ঘুরে আমরা চলে আসি পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য Buddha Dordenma তে। এখানে মূল আকর্ষণ হচ্ছে প্রায় ১৬৯ ফুট উঁচু বুদ্ধদেবের মূর্তি। এই বুদ্ধমূর্তিটি যে বিল্ডিং এর উপর স্থাপিত সেই বিল্ডিং এর ভিতরে রয়েছে ১ লক্ষ ২৫ হাজার ছোট বুদ্ধমূর্তি, যেগুলোর মধ্যে এক লক্ষ মূর্তির উচ্চতা ৮ ইঞ্চি এবং বাকি ২৫০০০ মূর্তির উচ্চতা ১২ ইঞ্চি করে।

Buddha Dordenma তে ভালো কিছু সময় পার করে আমরা চলে আসি Memorial Chorten এ। ভুটানের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সময় আপনার মনে হবে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে পাল্লা দিয়েই ভুটানিজরা তাদের স্থাপনাগুলো তৈরি করেছে। Memorial Chorten দেখেও এরকমটিই মনে হবে। এ Chorten টি তৃতীয় রাজা Jigme Dorji Wangchuck (জিগমি দরজি ওয়াংচাক) এর স্মরণে ১৯৭৪ সালে তৈরি করা হয় । এই Chorten এ প্রতিদিন ভুটানিজরা তাদের পূজা-অর্চনা করে থাকে।

যে দেশে ভ্রমণ করতে এসেছি সে দেশের সরকারি বা রাজার কার্যালয় না ঘুরে দেখলে কি হয়! তাই  Memorial Chorten ঘুরে আমরা চলে আসি Tashchho Dzong(টাশ্চু জং) এ। এটি রাজার কার্যালয় হওয়াতে দর্শনার্থীদের জন্য এই Dzong এ প্রবেশের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এই Dzong টি ঘুরে দেখতে হলে আপনাকে ৫:৩০ মিনিট এরপর আসতে হবে।

রাজ কার্যালয়ে ঘুরে আমরা চলে যাই থিম্পু শহরের Changlimithang(চাংলিমিথাং) স্টেডিয়ামে। এই স্টেডিয়ামটি মূলত, প্রাচীন যুগে ভুটানের যুদ্ধ ময়দান ছিল। বর্তমানে সেই ময়দানটিকে স্টেডিয়ামে রুপান্তরিত করেছে। এই স্টেডিয়ামটি দুই ভাগে বিভক্ত। একটি ফুটবল গ্রাউন্ড অন্যটি ভুটানের জাতীয় খেলা Archery এর জন্য Archery Ground। Archery গ্রাউন্ডে আসলে দেখতে পাবেন দুই দলে বিভক্ত archery প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় যে দল বিজয়ী হয় তারা কিছুটা নেচে-গেয়ে জয় উদযাপন করে থাকে, যেটি খুবই মজার ব্যাপার। তবে খেলাটি দেখতে  সহজ ও মজার লাগলেও খেলাটি খুবই কঠিন, যেখানে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিতে হয় তাদেরকে। কারণ ৪৫০ ফুট দূর থেকে লক্ষ্যভেদ করা মোটেও সহজ ব্যাপার না।

ভুটান ভ্রমণে এসে  প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর ভুটানিজদের তৈরি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা গুলো ঘুরে ঘুরে দেখার পর চলে যাই ভুটানিজদের জাতীয় পশু Takin দেখতে, Takin Preserve Zoo তে। Takin হচ্ছে ছাগলের অন্য একটি প্রজাতি। Takin ছাড়াও এখানে অন্য জীব জন্তু ও দেখতে পাবেন। এখানে ঘুরতে এসে মোটেই খারাপ লাগেনি আমাদের কারণ, গরুর দেহের গঠনের সাথে ছাগলের মাথা বিশিষ্ট এই বিলুপ্তপ্রায় ছাগল প্রজাতি Takin আমাদের অবাকই করেছে।

চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার পর জাদুঘর দেখতে আসাটা মন্দ কি! এখানে খুব চমকপ্রদ দেখার কিছু না থাকলেও, ভুটানিজদের গ্রাম্য জীবন সম্পর্কে কিছু ধারনা নিতে জুদুঘরটিও ঘুরে দেখি আমরা। জাদুঘরটির ভিতরে রয়েছে একটি ক্যান্টিন যেখান থেকে আপনি চাইলে  ভুটানিজদের খাঁটি খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন।

চিড়িয়াখানা ও জাদুঘর ঘুরে আমরা চলে যাই  Thimpu Chu নদীতে। নদী ঘুরে চলে আসি  থিম্পু শহরের প্রাণকেন্দ্র clock tower square। এটি বাংলাদেশের ধানমন্ডিতে অবস্থিত রবীন্দ্র সরোবরের মত। ক্লক টাওয়ার স্কয়ারে বসে কিছু ভালো মুহূর্ত কাটিয়ে যেতে পারেন। ক্লক টাওয়ার এর আশেপাশে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় সবকিছুই পাবেন। এর আশে-পাশেই হোটেল, ট্যাক্সি স্ট্যান্ড আর কেনাকাটা করার জন্য বিভিন্ন দোকান রয়েছে।

https://youtu.be/VGqin4FMiIE

 ভুটান ভ্রমণ Part 2

ভুটান ভ্রমণ Part 3

 

Posted in Blogs, Travel Blog and tagged , , , , , , , , , , , , , , , , , , , .

6 Comments

  1. I really like your blog.. very nice colors & theme.
    Did you create this website yourself or did you hire someone
    to do it for you? Plz reply as I’m looking to construct my own blog and
    would like to find out where u got this from. appreciate it

  2. Nice blog right here! Also your website loads up very fast!
    What host are you using? Can I am getting your affiliate hyperlink on your host?

    I desire my site loaded up as quickly as yours
    lol

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *